কাঠের ঘানির সরিষার তেল – ১ লিটার

0 Reviews Write a review
Product codeKGT-1000
Availability In Stock

350.00৳ 

Description

সরিষার তেলের ঐতিহ্য ও প্রকারভেদ:
উপমহাদেশে হাজার বছর ধরে সরিষার তেল রান্না, মালিশ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালেও এর ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে মূলত তিন ধরনের সরিষা পাওয়া যায়, রাই, শ্বেতী ও মাঘি সরিষা। এর মধ্যে মাঘি সরিষা থেকে তৈরি ঘানি ভাঙা প্রথম চাপের তেল স্বাদ ও গুণে অনন্য। মাঘি সরিষার দানা লালচে, আর তেল কালচে সোনালি বর্ণের হয়। রাসায়নিকমুক্ত প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হওয়ায় এই তেলের স্বাদ ও ঘ্রাণ বেশি সমৃদ্ধ থাকে।

প্রাকৃতিক হাটে ঘানির সরিষার তেল
প্রাকৃতিক হাটের ঘানির সরিষার তেল প্রস্তুত করা হয় শতভাগ দেশীয় সরিষা থেকে, ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘানিতে ধীরগতিতে ভাঙানোর মাধ্যমে। এই কোল্ড প্রেস পদ্ধতিতে তেল নিষ্কাশনের সময় অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয় না, ফলে সরিষার প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ, ঘ্রাণ, স্বাদ ও ঝাঁঝ অক্ষুণ্ণ থাকে। আমরা কোনো ধরনের কৃত্রিম রং, সুগন্ধি, কেমিক্যাল বা প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করি না। তাই প্রতিটি ফোঁটায় থাকে খাঁটি, বিশুদ্ধ ও নিরাপদ তেলের নিশ্চয়তা। আমাদের সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু হয় মাঠ পর্যায় থেকে। বিশ্বস্ত কৃষকের কাছ থেকে সরিষা সংগ্রহ করে বাছাই, পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়ায় তেল উৎপাদন করা হয়। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়, যাতে আপনার পরিবার পায় নিরাপদ ও পুষ্টিকর একটি পণ্য। তেলের স্বাভাবিক গাঢ় রং ও তীব্র ঘ্রাণই এর বিশুদ্ধতার পরিচয় বহন করে।

পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
ঘানির সরিষার তেল প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ই ও উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এটি শরীর উষ্ণ রাখতে সহায়ক, হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ব্যবহার ত্বককে মসৃণ ও আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। শীতকালে মালিশ হিসেবে ব্যবহারে আরাম দেয় এবং সর্দি-কাশির সময় বুকে মালিশে উপকার পাওয়া যায়।

রান্নায় অতুলনীয় স্বাদ
ভর্তা, ভাজি, মাছ, মাংস কিংবা ডাল, যেকোনো রান্নায় এই তেল স্বাদ ও ঘ্রাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে। আচার তৈরিতে এর ব্যবহার খাবারকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণে সহায়ক। সালাদ ড্রেসিং বা বিশেষ দেশীয় রেসিপিতেও এটি অনন্য স্বাদ যোগ করে।

আরপিএম (RPM) কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ:
আরপিএম (Revolution Per Minute) অর্থাৎ প্রতি মিনিটে একটি যন্ত্র কতবার ঘোরে তার পরিমাপ। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে এই ঘূর্ণনগতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশি আরপিএম মানে বেশি ঘর্ষণ, আর বেশি ঘর্ষণ মানেই বেশি তাপ উৎপন্ন হওয়া। অতিরিক্ত তাপ খাদ্যের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ, ভিটামিন, এনজাইম ও স্বাভাবিক ঘ্রাণ অনেকাংশে নষ্ট করে। তাই আরপিএম নিয়ন্ত্রণ করা মানে খাদ্যের গুণগতমান ও পুষ্টিমান সংরক্ষণ করা।

প্রাকৃতিক হাটের সরিষার তেল তৈরীর গতি (low RPM):
প্রাচীনকাল থেকে মানুষ ধীরগতির ঘানি বা হাতের শক্তি দিয়ে শস্য ভেঙে তেল তৈরি করত। মানুষের স্বাভাবিক হাতের গতি নিজেই একটি লো আরপিএম প্রক্রিয়া। এতে ঘর্ষণ কম হয় এবং তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। এই ধীর ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার কারণে শস্যের প্রাকৃতিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। আধুনিক উচ্চগতির মেশিনে দ্রুত উৎপাদন সম্ভব হলেও তাপের কারণে পুষ্টিগুণের কিছু ক্ষতি হয়।

কেন প্রাকৃতিক হাট?
প্রাকৃতিক হাট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ খাঁটি ও ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহে। আমরা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করি, ফলে নিশ্চিত হয় ন্যায্যমূল্য ও গুণগত মান। দ্রুত ও নিরাপদ ডেলিভারি সেবার মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে যায় আপনার দোরগোড়ায়।

প্রাকৃতিক হাটের কথা:
প্রাকৃতিক হাট ঘানির সরিষার তেল কম আরপিএম (RPM) প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ও প্রথম চাপের উৎপাদন, এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি ঘানির মাঘি ও শ্বেতী সরিষার তেল স্বাস্থ্যসম্মত, সুগন্ধি ও পুষ্টিকর উপায়ে তৈরী। প্রাকৃতিক হাটের সঠিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সরিষার তেল শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং সুস্থ জীবনযাপনেও সহায়ক।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “কাঠের ঘানির সরিষার তেল – ১ লিটার”
Back to Top

Search For Products

Product has been added to your cart